জীবন গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবন গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১৮

|| মরা গাঙ্গের কোলে || (পঞ্চম পর্ব)


ফারজোয়ানা মুক্তাদের

|| মরা গাঙ্গের কোলে ||


ইফতারের একটু পরেই বাবুটা আমাদের ঘর আলো করে এল। এই বিপদে
বাড়িওয়ালা ও তার স্ত্রী সবরকমের সহযোগিতা করলেন। কোনরকম আত্মীয়তা ছাড়া মানুষ মানুষের জন্য করে। আর একবার প্রমান পেলাম। সকালে আম্মা এসে বাবু কে দেখে খুব খুশি হলেন আবার অভিমান ও করলেন, কেন আমরা উনাকে সঠিক কথা বলিনি। মা তো বেশিক্ষন রাগ বা অভিমার কোনটাই করে থাকতে পারলেন না।

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৮

জীবন যেমন (চতুর্থ পর্ব)



এর মাঝে ছোট খালারা আবার বদলী হয়ে রাঙ্গামাটি চলে গেল। আমরা একা হয়ে গেলাম। তাই কলাবাগান হতে আগারগাঁও সরকারী কলোনিতে সাবলেটে বাসা নিলাম। বাসাটা দোতালা, নিচে বাড়িওয়ালা উপরে আমরা। রান্না ঘর নিচে ওয়াস রুম আর লেট্রিন উপরে, আলাদা আলাদা। বাড়িওয়ালারা শুধু লেট্রিন ব্যাবহার করত।  ওয়াস রুম আমারা ব্যবহার করতাম। রান্না ঘরের পিছনে একচিলতে উঠানে তারা ওয়াস রুম করে নিয়েছে। একি রান্না ঘরে দুই ফ্যেমেলির রান্না হত। রান্নার পর সব উপরে নিয়ে আসতে হতো।
দিনগুলি কেটে যাচ্ছিল কোন ভাবে। আব্বা অফিসের কোন কাজে ঢাকায় এলে আমাদের দেখতে আসতেন। যখন জানতে পারলেন আমাদের আর একজন বাবু আসছে আব্বা খুব রাগ করে ছিলেন, 'শিক্ষিত জামাই তবুও কেন ঘনঘন বাচ্চা নিচ্ছে?'

জীবন যেমন (তৃতীয় পর্ব)


আমি চিটাগাং আব্বার বাসায় আমার ছোট্ট বড় মেয়েকে নিয়ে ওর বয়স তখন ২বৎসর ৪মাস। আর একজন আসি আসি করছে। এর ভিতর কর্তাকে নারিকেলের উপর ডিপ্লোমা করার জন্য শ্রীলংকা যেতে হয়, তিন মাসের জন্য। উনি ফ্লাই করার পাঁচ দিনের মাথায় মেঝমেয়ে কোলে এল। দেখতে দেখতে তিন মাস কেটেগেল। কর্তা শ্রীলংকা থেকে ফিরলেন। উনার সরাসরি ঢাকার ফার্মগেট কৃষি অফিসে পোস্টিং হল। আমরা বাসা নিলাম কলাবাগানে। ছোট খালার বাসার কাছেই। খালুও সরকারি অফিসার ( মেজিষ্টেট), ওনারা জামালপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন আরো কিছুদিন আগে। 

এর মাধ্যে আমার খুব জ্বর, কিছুতেই জ্বর কমছেনা।

জীবন যেমন (দ্বিতীয় পর্ব)



এর দুএকদিন পর আমি বরিশাল চলে আসি। আমার কর্তা তখন রহমতপুর নারিকেল বাগানে কর্মরত। বছর ঘুরতেই অনাগত শিশুর আগমন ধ্বনি শুনতে পাচ্ছি আমাদের জীবনে। আবার আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি আগের বারের মতো না। প্রতি মাসেই চেকআপের জন্য বরিশাল শহরে যেতে হতো। দারুন হাসিখুশি একজন মধ্যবয়স্ক ডাক্তারের পেসেন্ট আমি। এত সুন্দর গল্প করতে করতে উনি আমাকে দেখতেন, আমার খুব ভাল লাগত। মনেই হতো না নিকটজনদের থেকে অনেক দূরে আছি। 

জীবন যেমন (ভূমিকা)



আমার ছোট্ট একজন নিলুপি আছে। চ্যাটে তার সাথে কথা হচ্ছিল একসময় বলল,"রোজীপু তোমার জীবনটা একটা উপন্যাস।" ওর কথা আমায় ভাবিয়ে তুললো। স্মৃতিরা মনের আয়নায় উকি দিয়ে যাচ্ছে, কিছু একসাথে কিছু এলোমোলো ভাবে। জীবনের সব কথাতো বলা যায় না। কিছু আনন্দ কিছু দুঃখ; শুধু একান্ত নিজের।  মনের মনিকোঠায়  রূপোর কৌটায় বন্ধ থাকে। যা খুলতে নেই,  কাউকে বলতে নেই
নিলুপি শুধু আমি কেন;  তুমি, আমি,  প্রতিটি মানুষই এক একটা উপন্যাস। সুখ-দুঃখ নিয়েই তো মানুষের জীবন। এই জীবন উপন্যাসের ঘটনা কখন কোন দিকে মোড় নিবে তা সে নিজেও জানে না। লেখক তার উপন্যাস নিজের মনের মত করে সাজায়। আবার অনেক সময় লেখকের নিজের হাতেও নাকি গল্পের কাহিনী থাকে না। লিখতে চায় একরকম লেখা হয়ে যায় অন্যরকম।

জীবন যেমন (প্রথম পর্ব)



     জীবনটা ছোট জীবনের চলার পথটা অনেক অনেক দীর্ঘ। চলার পথের নানা বাঁকে নানান মানুষের সাথে পরিচয়। কেউ বন্ধু কেউ শত্রু। জীবনটা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তির পাল্লাটাই ভারি। লেখা-পড়া শেষ করে হতে চেয়েছিলাম বিচারক; হয়েছি গৃহিণী। এটাই হয়তো কপালে লিখা ছিল, পড়াটা ও শেষকরা হলো না। বিয়ের প্রথম মাসেই কন্সিব হয়ে গেল,  পুরো ছয়মাস অসুস্ত ছিলাম। যেমন বমি তেমন জ্বর। আমার কর্তা উনার সর্বউচ্চ চেষ্টা দিয়ে আমার যত্ন করেছেন। উনার কর্মস্থল পাবনার টেবনিয়ার হর্টিকাল্চার ফার্মে বিয়ের কুড়িদিনের মাথায় চিটাগাং থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। না জানতাম রান্নাবান্না না জানতাম অন্যকিছু।  বাবার হোটেলে খেয়েছি আর লেখাপড়া করেছি। আমি আব্বার বাধ্য মেয়ে ছিলাম তাই আব্বা আমাকে খুব পছন্দ করতেন। কারো সাথে প্রেম করব হুটকরে বিয়ে করব কখনো ভুলেও চিন্তা করিনি। তাই সেই ভাবে প্রেম করা হয় নি। একটাই ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেষ করার তা আর হল কই।

নতুন লেখাগুলো পড়ুন...

      দুশ্চিন্তার চিকিৎসা   মূল: রশিদ আহমদ লুধিয়ানভি উর্দু: مفتی رشید احمد لدھیانوی ‎‎ জন্মঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ মৃত্যু...