প্রতিযোগিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতিযোগিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

বিজয়ের সূর্য

খালিদ মাহমুদ

তাড়াতাড়ি কর ভাই! আমরা তো পিছনে পড়ে যাবো! শহীদদের ফুল দিতে যাচ্ছি। তাও যদি দেরী করি, তাহলে তাড়াতাড়ি কাজ করবো কবে? আর কোন কাজে?
জাবেরের কথা শুনে মোবাইলটা বিছানায় ফেলে উঠে দাড়ালো মাসরুর। সংগঠন থেকে দেওয়া গেঞ্জিটা পরে নিল। হাত দিয়ে চেহারায় কোনরকম ফিনিশিং দিয়ে নিলো।
ওয়ারড্রবের উপর থেকে ফুলের তোড়াটা নিয়ে সংশয়মনে পা বাড়ালো রাস্তার দিকে।
ওর সংশয়ের কারণ হলো- ফেসবুকে একটা লেখা পড়েছে। শহীদদের জন্য যে ফুল দেওয়া হয় আর নীরবতা পালন করা হয়, তার কোন ভিত্তি নেই কোরআন-হাদিসে। আর এরকম ঢাকঢোলেরও কোন দলীল নেই।
বরং রাসুল সা. যেদিন মক্কা বিজয় করলেন, সেদিন তার চেহারা অবনত ছিলো। তিনি শুধু ইস্তেগফার করছিলেন। আর নবীজি সা.এর ইন্তেকালের পরে তার সাহাবীগণও এই বিজয়দিবস পালন করেননি।
শহীদদের জন্য দোয়া করা যায় যেকোন সময়ে। তবে নির্দিষ্ট দিনে এরকম করার কোন নিয়ম নেই।
এতসব ভাবতে ভাবতে জাবেরকে বললো তুই যা!
আজ আমার ভাল লাগছেনা। এ অবস্থায় আমার দ্বারা কোনোকিছু করা সম্ভব না।
ও ফিরে এলো। নিয়ত করলো অতীতে যে ভুল করেছে, তা আর করবেনা কখনো। তবে আজ অন্যকিছু নয় শহীদদের জন্য নিখাদ দোয়া হবে।ভিত্তিহীন সব কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে।
শহীদদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বিজয়ের সূর্য

আল আমিন
স্বাধীনতা এবং কিছু প্রশ্ন
স্বাধীনতা বলতে আমরা কী বুঝি? অনেকের ধারণা এমন- স্বাধীনতা মানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা। কথাটা ঠিক, তবে পরিপূর্ণ না। তাহলে এখন জানতে চাইবেন স্বাধীনতা কী? আমি বলি স্বাধীনতা হলো- স্বধীনভাবে পথচলা যেন অন্যের স্বধীনতায় হস্তক্ষেপ না হয়।দেশ স্বধীন হওয়ার প্রায় অর্ধশতকে এসেও আমরা স্বাধীনতার অর্থটাই বুঝতে পারিনি।তাইতো ১৯৭১ এর পরেই দেশের আকাশ শোষকের কালো থাবায় বারবার ঢেকে গেছে।
বর্তমানে স্বাধীন বাংলার অবস্হা অনেকটা নিশীপল্লীর মত, সরকার বদলের সাথে সাথে সিন্ডিকেট পাল্টে যায়।পাল্টে যায় বিনেপয়সায় ভোক্তারা।
তবে সাধারন লম্পটদের অবস্থা একই থাকে।তারা চক্ষুলজ্জায় চোখ তুলে কিছু বলতেও পারে না।প্রশাসনের ভুমিকাটা এখানে থাকে দর্ষক বা সহযোগী হিসাবে।
আমরা সাধারন জনতা আজ সেই লম্পটদের পর্যায়ে রয়েছি। কান-কালা,চোখ-অন্ধ,পিঠে-ছালা,মুখ-বন্ধ করে আজ সব সহ্য করছি।
মনে রাখবেন, যে জাতি নিজের ভবিষ্যত পরিবর্তনের চেষ্টা করেনা,আল্লাহতায়ালাও তাদের ভবিষ্যত পরিবর্তন করেন না।
আজ খুণ দিয়ে কেনা স্বধীনতায় ঘুণ ধরেছে।
দুর্নীতিই হয়েছে মুলনীতি।
অনিয়মটাই হয়েছে সঠিক নিয়ম।
মুখের ভাষণই হয়েছে শাসনের মুলমন্ত্র।
অভিনেতারা হয়েছে জননেতা।
এখন প্রশ হল কি পেয়েছি আমরা? দেশ তো স্বাধীন হয়েছে, তবুও আমরা কেন স্বাধীন হতে পারলাম না?
খুদিরাম,মাষ্টারদা,প্রীতিলতার পাশে কেন শরীয়তুল্লাহ,দুদুমিয়া,তিতুমীররা উপযুক্ত স্হান পায়না? মুক্তিযোদ্ধাদের দলে, ধুতিপরা ব্রাহ্মণের সাথে কি সেদিন দাড়িওয়ালা মুসলিম ছিলনা? আশান্তির শান্তি কমিটি ছেড়ে কি কোন তেলবেআলেম মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়নি? ইজ্জত হারানো মায়েরা আজও কেন বেইজ্জতি হয়? পা হারানো মুক্তিযোদ্ধা কেন আজ অসহায় হয়ে কাঁদে?
আজ বিজয়ের মাসে মনে হয়,আমরা কি সত্যিই বিজয় পেয়েছি? বাংলার আকাশের কোথায় সেই রক্তিম সূর্য?
মনে অনেক প্রশ্ন জাগে যেগুলো এক করলে বিশাল এক মহাকাব্য হবে।যার নাম হবে হয়ত- অসমাপ্ত প্রশ্নমালা।
তবুও হল ছাড়িনি।অনেক বাঙালীর মত আজও চেয়ে আছি দেশের আকাশে-কখন উঠবে বিজয়ের সূর্য?

বিজয়ের সূর্য

যুবাইর ইসহাক
বিজয় ও আনন্দ।
জয়ী হওয়ার চেষ্টা সবসময় আমাদের মধ্যে বিদ্যমান। বিজয়ের আনন্দ আমাদের উচ্ছাসিত করে সর্বদা।
ছেলেবেলা অন্য পাড়ার বন্ধুদের খেলায় হারিয়ে দেওয়া ছিলো সবচে আনন্দের বিষয়। আরেকটু বড় হয়ে বন্ধুদের তর্কে হারিয়ে দিতে চেষ্টার কম নেই এবং একসময় জয়ী হলে আনন্দে মেতে উঠি। আমাদের সার্পোটিং দলের কথাই ধরি, তারা খেলে এক প্রান্তে; আমরা আনন্দ উৎসব করি অন্যপান্তে বসে।
জীবন ভরে আমরা দেখি, একটা বিজয়ের পিছনে রয়েছে, অনেক চেষ্টা-সাধনা, ত্যাগ-কুরবানি। এজন্য বিজয় আমাদের কাছে প্রবিত্র, কাঙ্খিত ও আনন্দময়।
একটা বিজয়ের জন্য ঝড়াতে হয় রক্ত, করতে হয় প্রাণ উৎসর্গ। বর্তমান বিশ্ব তো তাই বলছে, অনেক সবুজ-শ্যামল ভূমি রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে, অনেক পবিত্র ভূমি হায়নাদের পায়ে অপমানিত হচ্ছে, শুধু স্বাধীনতা চাওয়ায়।
আমার প্রিয় বাংলাদেশও কম কী। আমাদের বিজয় অর্জনের পিছনে ছিলো দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ, মায়ের মানিক হারানো, বাবার ছেলে হারানো, বোনের অপেক্ষা, সন্তানের বাবার জন্য অস্থিরতা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ।
আমরা আমাদের এই বিজয়ের কথা কে না জানি? মানুষ তার বংশের গৌরবের কথা, সম্মান-সাহসের কথা জন্মে পর থেকেই শুনে আসে। আমরাও তো কবে থেকে বিজয়কে ভালোবাসতে বাসতে বড়ো হচ্ছি।
প্রতি বছর বিজয় দিবস আমাদের মাঝে আসে। আমাদের স্মরণ করে দেয়, এই দিনটা আমাদের এক আনন্দের দিন। একটা উৎসবের দিন। আমাদের স্বাধীন হওয়ার দিন। বাংলাদেশ নামে এক ভূখণ্ড বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পাবার দিন।
এইদিন আমাদের আনন্দ দেয়। মাঝেমধ্যে কষ্টও হয়। এই কষ্টটা হয় অনেক ত্যাগের পরও, ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলতে দেখে, কৃষকের অভাবী-অনাহারী জীবন দেখে, আমরা আমাদের গুলি করতে দেখে, নিজেরা নিজেদের সম্পদের ডাকাতি করতে দেখে, একজন বাবার বুক ভরা কষ্ট দেখে, একজন মায়ের চক্ষু ভরা অশ্রু দেখে, লক্ষ যুবক বেকার দেখে। তবে আমরা আশাবাদী দেশ একদিন অন্য দেশ হবে।

বিজয়ের সূর্য

আব্দুল্লাহ আল মামুন

  • একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার
  • সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার '— সংগীতটা শুনতেই হৃদয়ে একটা অন্যরকম শিহরণ অনুভব করি। কারণ, এতে আছে আমার দেশের কথা , দশের কথা।আছে বিজয়ের গল্পগাঁথা। সত্যিই আমি এমন একটা দেশে জন্মেছি যাকে নিয়ে গর্ব করা যায়। যার বুকে মাথা রেখে স্বস্তিতে ঘুমানো যায়। যার মুক্ত আকাশ আর নির্মল বাতাসের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে সুখে থাকা যায়। যার ছায়াঘেরা মায়াঘেরা আঁচলের সম্মান রক্ষায় নিমিষেই ঝরে যায় হাজারো তাজাপ্রাণ।
  • বাংলাদেশ । আমার অহংকার ! সবুজের শামিয়ানায় রক্তের প্রলেপ দেওয়া পতাকা আমার সবচে' প্রিয় ছবি। এর জন্য আমরা অনেক রক্ত ঝরিয়েছি। ত্যাগের স্মৃতিসৌধ বানিয়েছি। লাক্ষ প্রাণ দিয়ে শহিদ মিনার গড়ে তুলেছি। রক্তের বন্যায় শাপলার সাদা ফুল লাল হতে দেখেছি। মুঠিভরে মাটি নিয়ে কত দেহ নিথর হতে দেখেছি ! এ মাটির মাঝ থেকে এখনো ভেসে আসে শহিদানের রক্তের ঘ্রাণ। এ ভাষার প্রতিটা হরফে লেগে আছে শহিদানের রক্তের দাগ। এই সবকিছুর বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটা পতাকা। লাল-সবুজের প্রিয় পতাকা! এই পতাকার নিচে বেঁচে থাকে একটা দেশ, একটা জাতি, একটা ভাষা। যদি কেউ ছিনিয়ে নিতে চায় এই পতাকা তবে জেগে ওঠবে একটা দেশ, একটা জাতি আর একটা ভাষা। রক্ষা করবে প্রিয় পতাকার মান প্রাণ দিয়ে। প্রতিবার বিজয়ের সূর্য ওঠে আর বিজয় টিকিয়ে রাখার শিক্ষা দিয়ে যায়।
  • লাল-সবুজের প্রিয় পতাকা! তুমি স্থায়ী হও। তোমার ওয়ারিশদের ফিরিয়ে দাও নায্য অধিকার। তুমি গাদ্দারি করো না জাতির সাথে আর জাতিকেও গাদ্দারি করতে দিও না তোমার সাথে! তাহলে আমি যে আর বুক উঁচিয়ে গাইতে পারবো না— 'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি !
  • সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।

নতুন লেখাগুলো পড়ুন...

      দুশ্চিন্তার চিকিৎসা   মূল: রশিদ আহমদ লুধিয়ানভি উর্দু: مفتی رشید احمد لدھیانوی ‎‎ জন্মঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ মৃত্যু...