সৃজনশীল লেখালেখি প্রতিযোগিতা-২০১৮/গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সৃজনশীল লেখালেখি প্রতিযোগিতা-২০১৮/গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮

৫ম স্থান অধীকারীর গল্প

নাফিম উল আবীর

আমি কোন খুন করিনি

এক,
গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল: স্বামী মানে না বউ মোড়ল
ঘুঘু দেখেছো, ঘুঘুর ফাঁদ দেখোনি:বউ দেখেছো, বউয়ের শপিং দেখোনি
চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি: বউ না শোনে স্বামীর কাহিনি
ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়: বউ বাছতে গাঁ উজাড়
বিশেষ প্রবাদ: লজ্জা নারীর ভূষণ,পুরুষের দূষণ
.
খাতাটা দেখার পর প্রথম যেই ভাবনাটা তাকে আঘাত করলো, সেটা হলো—এসব কী?
এই লোক নিশ্চয়ই পাগল, নইলে এতকিছু খাতায় লেখার কথা না। কয়েকটা প্রবাদ লেখা। তার পাশে লেখা সেসব প্রবাদের “আধুনিক” রূপ। সবগুলোই নারীকে নিয়ে লেখা প্রবাদ। 

৪র্থ স্থান অধিকারিনীর গল্প

ইলা ইসরাত

ব্যাগ থেকে মামুন সাহেব একটা ডায়েরি বের করলেন। খুব যত্নসহকারে ডায়েরির পাতাগুলি উল্টাচ্ছিলেন। অনেক আগের ডায়েরি হওয়ায় পাতাগুলি কেমন যেনো একটা আরেকটার সাথে লেগে ছিলো। লেখার কালিও ছড়িয়ে পড়েছে।তারপরও  মামুন সাহেব পড়ার চেষ্টা করছেন। এতোদিন ডায়েরিটা পড়ার সাহস তার ছিলো না। কিন্তু আজ পড়তে ইচ্ছা করছে তার। কী লিখা আছে ডায়েরিতে? লিখাগুলো কি তিনি পড়তে পারবেন? সহ্য করার শক্তি কি আল্লাহ তাকে দিবেন?  না!  মামুন সাহেব আর ভাবতে পারছেন না। চোখটা তাই বন্ধ করে বহুদিনের সেই চাপা দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জল ফেললেন তিনি।

৩য় স্থান অধিকারীর গল্প

মোহাম্মদ জয় আলম


নেহার বিয়ে হলো এ নিয়ে সাতমাস। এর মাঝে তাকে চারবার মেডিকেলে ভর্তি হতে হয়েছে। নাহ, কোন গর্ভজনিত কারণে নয়। স্বামীর অবাধ্য অসংযম ক্রোধের ফলশ্রুতিতে তাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়েছে কয়েকবার। সে একবার গ্লিজার অন করতে ভুলে গেল, স্বামী আসাদ মেরে হাত ভেঙ্গে ফেলল তার। খাবারে একবার ঝাল বেশী হল, তো সে ধাক্কা মেরে মাথা ফাটিয়ে দিলো নেহার। এরকম কথ্য-অকথ্য নির্যাতনে চলছে নেহার কল্পিত নান্দনিক দাম্পত্যজীবন। তুচ্ছ কারণে আসাদ যখন নেহাকে বিশ্রী ভাষায় গালাগাল আরম্ভ করে, খুব স্বাভাবিক বিষয় নিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয় পাশকরা নামীদামী পোস্টে চাকুরীরত আসাদ মাত্র আঠারো বছরের পদ্মরাগ তরুণীকে মারধর করে; সে তখন স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।  যখন সে ভাবে, কী সুন্দর মোহময় ভেবেছিল সাংসারিক জীবন, কেমন বিষাদময় হয়ে দেখা দিল তা-তখনই নেহা ডুকরে কেঁদে উঠে।

২য় স্থান অধিকারিনীর গল্প

আফছানা খানম অথৈ

"কুমারী"

প্রেমা মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে। বাবা অবসরপ্রাপ্ত হাইস্কুল টিচার। মেয়ের পড়া-লেখা শেষ। ত তাই এবার বিয়ে দেওয়া আবশ্যক। ঘটক ডেকে পাত্র দেখতে বললেন। দু'একটা প্রস্তাবও এসে গেছে ইতিমধ্যে। দু'পক্ষের পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার-স্যাপার আছে। যাক, সেখানে আর বিয়ে হয়নি।ঘটক কিন্তু বসে নেই, একটার পর একটা প্রস্তাব আনছে। পাত্রী অনেকের পছন্দ হয়, কিন্তু দেনা পাওনার হিসেবটা মিলছে না বিধায় প্রেমার বিয়ে হতে লেট হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির শিক্ষিত মেয়ে, নম্র-ভদ্র, সুন্দরী, তবুও পাত্র পক্ষের অভিযোগ মেয়ের বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না।

১ম স্থান অধীকারিনীর গল্প

মাহামুদা মিনি

একটি মেয়ের গল্প

আমি এখন প্রথমে ঠিক কোন কাজটা করবো বুঝে উঠতে পারছি না। অবশেষে চেয়ারটা বিছানার কাছে টেনে নিয়ে বসে পড়লাম। হাতে রাফিনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন। ওর হার্টের সমস্যা আছে তাই নিয়ম মতো তিনবেলা মেডিসিন খেতে হয়। এই প্রেসক্রিপশনটা প্রায় ছিড়ে গিয়েছে, তাই নতুন একটা কাগজে সব ওষুধের নামগুলো সাজিয়ে লিখছি।কারণ, কাল থেকে তো ওকে ওষুধ খাওয়ার কথা বলে দিতে পারবো না আমি।
একবেলা ওষুধ না খেলে ও অসুস্থ হয়ে পড়ে।বাসাটাও আজ শেষবারের মতো গুছিয়ে রাখবো। ও অফিস থেকে ফেরার আগেই।

নতুন লেখাগুলো পড়ুন...

      দুশ্চিন্তার চিকিৎসা   মূল: রশিদ আহমদ লুধিয়ানভি উর্দু: مفتی رشید احمد لدھیانوی ‎‎ জন্মঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ মৃত্যু...